top of page

প্রতিবিপ্লব ও ট্রাইব্যুনাল

অনেকের মতে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরে বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার সর্বোচ্চ তরল অবস্থায় নিপতিত হয়েছিল। তাহের এবং জাসদ নেতৃবৃন্দ সেদিন চুপ করে বসে থাকেননি। তারা দেশের প্রয়োজনে এগিয়ে আসেন, একটি বিপ্লবী প্রচেষ্টার মাধ্যমে ৭ই নভেম্বরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথকে ঘুরিয়ে দিতে সচেষ্ট হন। এই প্রথমবারের মতো শুধুমাত্র একটি জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে নয় বরং তার সঙ্গে শোষণহীন সমাজ গঠনের আকাক্সক্ষা থেকে তাহের এবং তাঁর সাথীরা এগিয়ে আসেন বিত্তহীন ও শ্রমজীবী মানুষের পক্ষ হয়ে। তবে সেদিন আরো অনেকেই দেশের সেই তরল অবস্থার সুযোগ নিতে চেয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে খন্দকার মোশতাক সেই দক্ষিণপন্থী শক্তিকে নেতৃত্ব দিলেও পরে জিয়া সেই শক্তিকে সংহত করেন এবং তাহেরকে পরাজিত করে প্রতিবিপ্লবের নেতৃত্ব দেন। আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশে জিয়া এবং দক্ষিণপন্থী শক্তির ক্ষমতাগ্রহণ সহজ মনে হলেও, প্রকৃত অর্থে তা মোটেই সহজ ছিলো না। জীবিত তাহের ছিলেন জিয়ার এবং দক্ষিণপন্থী শক্তির সবচেয়ে বড় বাধা। তাহেরকে হত্যা করতেই গঠন করা হয় স্পেশাল মার্শাল ল ট্রাইব্যুনাল নং-১, যে ট্রাইব্যুনাল একটি বেআইনি এবং অবৈধ বিচারের মাধ্যমে ১৯৭৬ সালের ১৭ই জুলাই তাহেরকে ফাঁসির আদেশ দেয়। ২১শে জুলাই সে আদেশ কার্যকর করে জিয়া এগিয়ে যান। তবে ইতিহাসের নির্মম সত্য এই যে তাহেরের বিপ্লবী চেতনা জিয়াকে আরো ২১টি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাড়িয়ে বেড়াতে থাকে। ২১তম অভ্যুত্থানে জিয়া নিজে নিহত হন।

bottom of page